রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মিথ্যা মামলা দেওয়ার পুরোনো সংস্কৃতি এখনও বহাল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০–৫০ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ছাত্রদল।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম এই অভিযোগ তোলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দমনপীড়নের স্মৃতিচারণ করে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন,
“আওয়ামী লীগ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দিয়েছিল!”
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীত সরকারের আচরণের তুলনা টেনে তিনি আরও লেখেন,
“গতকাল হবিগঞ্জের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল গউস এমপির নির্দেশে তার পালিত ছাত্রদল আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা দিয়েছে! সেই পুরোনো অভ্যাস! নিজেদের মতো সবাইকে ভাবলে তো হবে না!”
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়: গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদের সামনের প্রধান সড়কে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনা সভায় যোগ দিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরীর ডান কাঁধে লোহার রডের আঘাতে হাড় ভেঙে যায় এবং মোজাক্কির হোসেন ইমনের মাথায় ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হন। মামলায় দাবি করা হয়, হামলাকারীরা আহতদের কাছে থাকা নগদ অর্থসহ একাধিক দামি মোবাইল ফোন (আইফোন ১১, ১৩, ১৪ ও ১৫) ছিনিয়ে নিয়েছে।