নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পরও রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের মূল্যে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি; বরং দাম রয়েছে আগের মতোই। অন্যদিকে, কাঁচাবাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম অনেকটাই সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে এসেছে। গরুর মাংসের দামও ঈদের পর বাড়েনি।
শুক্রবার (১৯ জুন ২০২৬) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি নতুন কোনো কর বা শুল্ক আরোপ না হওয়ায় দাম বাড়েনি। সাধারণত অন্যান্য বছর বাজেট ঘোষণার পর পরই নিত্যপণ্যের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলেও এবার চিত্র ব্যতিক্রম।
ঈদুল আজহার পর মাংস ও ডিমের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। মোহাম্মদপুর ও রায়েরবাজারের বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে বাজারদর নিম্নরূপ: ব্রয়লার মুরগি: ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি: ৩২০ টাকা কেজি, ডিম (ডজনপ্রতি): ১১০ থেকে ১২০ টাকা, গরুর মাংস: ৮০০ টাকা কেজি
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজেট ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। কিছু মাছের দাম ঈদের আগের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। পাঙাশ: ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া: ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি, রুই: ২৬০ convert 350 টাকা কেজি, মৃগেল: ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, পাবদা ও বেলে: ৩৫০ টাকা কেজি, টাকি ও কই: ৪oo থেকে ৫০০ টাকা কেজি, শিং: ৪০০ টাকা কেজি, দেশি টেংরা ও বাইম: ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, চিংড়ি (আকারভেদে): ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি
বাজারে বর্তমানে মৌসুমী সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। অধিকাংশ সবজিই ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। পটল, লতি, গোল ও লম্বা বেগুন: ৬০ টাকা কেজি, করলা ও কাঁকরোল: ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, শসা, মুলা ও ধুন্দুল: ৫০ টাকা কেজি, পেঁপে ও কচুরমুখী: ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, আলু: ২৫ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ: ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, লাউ (প্রতি পিস): ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লেবু (প্রতি হালি): আকারভেদে ১০ থেকে ২০ টাকা, গাজর: ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি (সবজির মধ্যে গাজরের দাম এখনও চড়া)
বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা জানান, মাছ ও মাংসের দাম কিছুটা বেশি হলেও সবজির বাজার বর্তমানে বেশ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। সরবরাহ এমন থাকলে আগামী দিনগুলোতে দাম আরও কমবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।