ভেনিজুয়েলার কুখ্যাত অপরাধী চক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের আস্তানায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই সফল সামরিক অভিযানে গ্যাংটির প্রধান ও মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী নিনো গেরেরো নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “আমার সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) নিনো গেরেরোকে নির্মূল করতে একটি দ্রুত ও প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।”
নিনো গেরেরোর আসল নাম হেক্টর রুথেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস (৪৩)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম নৃশংস অপরাধী চক্র ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গ্যাংটিকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সমপর্যায়ের একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিযানের একটি ভিডিও যুক্ত করেছেন, যেখানে একটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি ভবন ও তার পাশের স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস হতে দেখা গেছে। ট্রাম্প জানান, এই সফল সামরিক অভিযানটি ভেনিজুয়েলার বর্তমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে চালানো হয়েছে। ভেনিজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির ‘বলিভার’ রাজ্যে মার্কিন বাহিনী ও ভেনিজুয়েলান নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ পুশ-অপারেশনে গেরেরো নিহত হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের গত জানুয়ারিতে (২০২৬) মার্কিন বিশেষ বাহিনী এক ঝটিকা সামরিক অভিযান (অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ) চালিয়ে ভেনিজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। মাদুরোর বিরুদ্ধে এই কুখ্যাত গ্যাংটির সঙ্গে যোগসাজশ ও মাদক সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন দে আরাগুয়া মূলত ভেনিজুয়েলার একটি জেলখানা-ভিত্তিক গ্যাং ছিল। তবে নিনো গেরেরো এটিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রে রূপান্তর করেন। তাকে জীবিত বা মৃত ধরার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৫০ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
গেরেরোর নেতৃত্বে গ্যাংটি কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, চিলিসহ ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এবং অতি সম্প্রতি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ডালপালা বিস্তার করে। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রধানত ল্যাটিন আমেরিকান অভিবাসীদের কাছ থেকে ভয়াবহ চাঁদাবাজি, আন্তর্জাতিক নারী ও যৌন পাচার, ভাড়ায় খুন এবং অপহরণের অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন মাদুরো সরকার ১১ হাজার সেনা পাঠিয়ে জেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে টো কোরন কারাগার থেকে সুড়ঙ্গ পথে পালিয়ে যান গেরেরো। মূলত বলিভার রাজ্যের স্বর্ণখনি এবং ক্যারিবীয় উপকূলের প্রধান প্রধান মাদক চোরাচালান রুট এই গেরেরোর নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মাদক পাচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সাগরে বেশ কিছু নৌযানের ওপরও হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত সেপ্টেম্বর থেকে এই ধরনের অভিযানে ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত ওই নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে শতভাগ মাদক পাচারের অকাট্য প্রমাণ প্রকাশ না করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই অভিযানের বৈধতা ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।








মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!