বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাকে স্বাগত জানাতে ভারত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্র নয়, তবুও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, "আমি মনে করি, এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার। তবে আমাদের পক্ষ থেকে বলতে পারি, আমরা বাংলাদেশ সরকারপ্রধানকে ভারতে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এই সফরটি বাস্তবায়িত হবে।"
এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এটি নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রথম বৈঠক।
তিস্তা ও গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আজকের সাক্ষাৎটি মূলত সৌজন্যমূলক ছিল। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকলে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। দিনশেষে সাধারণ মানুষের কল্যাণ এবং দুই দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য যা মঙ্গলজনক, সেটাই করা হবে।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎ শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, "আজকের মিটিংটা অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আমাদের মূল লক্ষ্য ও বিষয়গুলো একেবারেই অভিন্ন। ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, এমনকি ক্রিকেট খেলার দিক থেকেও আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক অনেক গভীর।" এ সময় তিনি সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যকার ভিসা চালুর বিষয়টিও উল্লেখ করেন, যাতে উভয় দেশের মানুষই এর সুফল পেতে পারে।
তিনি আরও জানান, পানি চুক্তির বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় পক্ষের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের আসন্ন সফরে সার্বিক দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।