টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অলোকরিবাইদ (রেরিবাইদ) ইউনিয়নের গোবুদিয়া গ্রামের সাধুর মোড় থেকে ঝাটারবাইদ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা ও জরাজীর্ণ রাস্তার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরণের সংস্কার কাজ না হওয়ায় রাস্তাটিজুড়ে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদায় একাকার হয়ে যাওয়ায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল।

স্থানীয়দের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, স্বাধীনতার দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের নিকট বারবার ধরনা দিয়েও টেকসই সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখতে পাননি তারা।

সবচেয়ে বেশি দুর্দিনের শিকার হচ্ছেন এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একটু বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী ঠিকমতো ক্লাসে অংশ নিতে পারে না এবং টানা কয়েক দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হয়।

শিক্ষার্থী সাজু, শিশির ও ইয়াসিন আক্ষেপ করে জানায়, “যেদিন রাস্তার অবস্থা বেশি খারাপ থাকে, সেদিন উপায় না পেয়ে আমরা আনারসের বাগান ও জমির আইল দিয়ে হেঁটে বিকল্প পথে স্কুলে যাতায়াত করি।”

মধুপুরের ঐতিহ্যবাহী আনারসসহ আম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, কলা, পেয়ারা, ড্রাগন ফল এবং বিভিন্ন শাক-সবজি এ অঞ্চলের কৃষকদের মূল আয়ের উৎস। প্রতিদিন এসব কৃষিপণ্য এই সড়ক দিয়েই বাজারে নেওয়া হয়। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। যথাসময়ে বাজারে পণ্য পৌঁছাতে না পারায় প্রায়ই ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা প্লট পাড়ার শশি খাতুন জানান, “রাস্তাটি বেহাল থাকায় এলাকার কোনো জরুরি রোগী বা প্রসূতি নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা কোরবান আলী বলেন, “বছরের পর বছর ধরে আমরা এই অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করে আসছি। কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বারই রাস্তাটি সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।”

রেরিবাইদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ফকির বলেন, “এটি অলোকরিবাইদ ইউনিয়নের সবচেয়ে জরাজীর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম। জনস্বার্থে দ্রুত এই সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এলাকাবাসীর জোর দাবি, বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সড়কটি সংস্কার করা হোক। এটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কষ্ট লাঘব হবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।