অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই রূপকথার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ দল। ক্যাঙ্গারুদের বিপক্ষে টাইগারদের এই ঐতিহাসিক জয়ে ব্যাট এবং বল হাতে রাজকীয় ভূমিকা রেখেছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দীর্ঘ ৪ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেই অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরার (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে মোসাদ্দেক অকপটে জানালেন চার বছর পর দলে ফিরেই এমন অবিশ্বাস্য সাফল্যের নেপথ্য রহস্য।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের ব্যাটিং দর্শন নিয়ে মোসাদ্দেক বলেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে আমি সাধারণত এভাবেই খেলার চেষ্টা করি। এখনকার আধুনিক ক্রিকেটের কথা যদি ভাবি, পরিস্থিতি বা স্ট্রাইক রেটের ব্যাপারটা সবসময় মাথায় রাখা জরুরি। আমি সেই জিনিসটাই ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক ম্যাচে বয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। আশা করছি সামনেও এই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি যতক্ষণ ক্রিজে সুযোগ আছে, দলের জন্য যেন বেশি রান তুলতে পারি। আর ব্যাটিংয়ের সময় আমি বাড়তি কোনো চাপ না নিয়ে স্রেফ আমার জোনের শটগুলা খেলে গেছি।’

দীর্ঘদিন পর ড্রেসিংরুমে ফিরে দলের সবার কাছ থেকে দারুণ সমর্থন পেয়েছেন জানিয়ে এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘দলের সবাই আমাকে দারুণভাবে সাপোর্ট করার চেষ্টা করছে। যেহেতু অনেক দিন পরে দলে ফিরেছি, তাই পুরো দলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার কাছে মনে হয় ঘরোয়াতে আমরা যেখানেই খেলি না কেন, যদি ভালো উইকেটে খেলতে পারি, তবে সেটা আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য আমাদের ভালো প্রস্তুতি এনে দেয়।’

ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্ব তুলে ধরে মোসাদ্দেক বলেন, ‘অবশ্যই ঘরোয়ার পারফরম্যান্স আমাকে মানসিকভাবে বুস্ট আপ করেছে। ঘরোয়াতে পারফর্ম করতে থাকলে মাথায় কাজ করে যে যেকোনো সময় জাতীয় দলে সুযোগ আসতে পারে। দিনশেষে সবাই চেষ্টা করে দেশকে সার্ভ করার, এটাই মেইন টার্গেট। অবশ্যই ডিপিএল (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ) সহ সবকিছুর পারফরম্যান্সের একটা বড় ভ্যালু আছে।’

নিজের ক্যারিয়ারের আগের সময়গুলো নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে মোসাদ্দেক বেশ পরিপক্ব উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘আক্ষেপ অবশ্যই কিছুটা কাজ করে। আমার যে প্রতিভা ছিল, সেই অনুযায়ী হয়তো আগে আমি সেভাবে পারফর্ম ডেলিভার করতে পারিনি। এখন অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে সেটা মেনে নিয়েছি এবং চেষ্টা করছি সামনে যেন দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি।’

ভবিষ্যতে ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফর্মারদের জন্য উদাহরণ তৈরি করতে চান কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে কাকে কখন একাদশে খেলাবে এটা সম্পূর্ণ টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। তবে যারা ঘরোয়াতে নিয়মিত ভালো করছে, তারা পারফর্ম করে গেলে তাদের জন্য সবসময় সুযোগ আসবে। যারা জাতীয় দলে খেলতে চায়, তারা অবশ্যই সেই সুযোগটা লুফে নিতে চাইবে।’