ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ রোগীর চাপ ও তীব্র জনবল সংকটের কারণে বেহাল দশা পিরোজপুর ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালের। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সরেজমিন দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ১৪টি বেডের বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৯১ জন শিশু। বেড না পেয়ে ওয়ার্ড, বারান্দা ও মেঝেতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডেও একই রকম অতিরিক্ত রোগীর চাপে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৬২ জন চিকিৎসকের পদ থাকার বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪ থেকে ১৫ জন। বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর প্রকোপ বাড়ায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
এদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও এখনো চালু হয়নি ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ২৫০ শয্যার নতুন জেলা হাসপাতালটি। ভবন নির্মাণ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও সরঞ্জামের অভাবে দফায় দফায় পিছিয়ে গেছে এর উদ্বোধন।
তবে আশার কথা শুনিয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে জরুরি বিভাগ ও শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রাথমিকভাবে চালু করা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকট কাটিয়ে ওঠার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। দ্রুত নতুন হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হলে পিরোজপুর ও আশপাশের প্রায় ২০ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও চিকিৎসা সংকট দূর হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।