ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষের পথে। চা বিরতির পর মার্নাস লাবুশেনকে ফেরানোর পর এবার স্টিভ স্মিথকেও আউট করে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে আরও বেশি কোণঠাসা করে ফেলেছে সফরকারী বাংলাদেশ।

এর আগে ২ উইকেটে ৫১ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়া। ওই সময় স্টিভ স্মিথ ৮ ও লাবুশেন ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাঠে নেমেই তাইজুল ইসলামের করা এই সেশনের তৃতীয় ওভারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মার্নাস লাবুশেন।

এরপর স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ১০৬ বলে গড়া তাদের ৪৯ রানের এই জুটি ভেঙে দেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৪৪ রান করে আউট হন স্টিভ স্মিথ। ৮৮ বলের এই ইনিংসে তিনি ৫টি চার হাঁকান। এই উইকেটের পতনের ফলে ১২২ রানেই নিজেদের চতুর্থ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে ২২৮ রানের বিশাল লিড নিয়ে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে পাঠায়। ইনিংসের শুরুতেই দ্বিতীয় ওভারে সাফল্য এনে দেন পেসার হাসান মাহমুদ। অজি ওপেনার কার্ক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করে তার ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে ফেলে দেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত হওয়া এই ওপেনার এবার মাত্র ৩ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই (ডাক) সাজঘরে ফেরেন। তার ব্যাটে লেগে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানে, ফলে ৪ রান তুলতেই প্রথম উইকেট হারায় অজিরা।

আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও তাকে বোল্ড করে স্বস্তি ফেরান সেই হাসানই। অস্ট্রেলিয়া ৩৭ রানে হারায় দ্বিতীয় উইকেট। হেড তিন চারের সাহায্যে ৩৫ বলে ১৭ রান করে বোল্ড হন। ওয়েদারাল্ডের মতো তাঁকেও একইভাবে বোল্ড করেন বাংলাদেশি এই পেসার। এর মধ্য দিয়ে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার আটটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে পুরলেন হাসান মাহমুদ।

এদিকে ইনিংসের ১৪তম ওভারে স্টিভ স্মিথকে বিদায় করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছিল বাংলাদেশ। ইবাদত হোসেনের বলে তাঁর বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন করা হলে আম্পায়ার আউট দেন। কিন্তু আম্পায়ারের আঙুল তোলার আগেই রিভিউ নেন অজি ব্যাটার। পরে রিভিউতে দেখা যায় বল ব্যাটে ছোঁয়নি, আর স্নিকোমিটারে যে স্পাইক দেখা গিয়েছিল তা মূলত ব্যাট মাটিতে আঘাত করার কারণে হয়েছিল। ফলে ৩ রান জীবন পান স্মিথ। তবে শেষ পর্যন্ত হাফ সেঞ্চুরি করার আগেই তাঁকে থামতে হলো।