জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন।

আজ শনিবার (১৩ জুন) প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্ণফুলী উপজেলার চাটগাঁ বেড়িবাঁধ এলাকায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিনে প্রায় ১.৫০ একর জমিতে ১৯ প্রজাতির ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, "শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রেখে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে তুলতে হবে। আমাদের পরিবেশ, জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে নাগরিক সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।"

করোনাকালে সাধারণ মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি নাগরিককে এসব চারা নিজের মনে করে পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ২৫ লাখ চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বন বিভাগের আওতায় রোপণ করা হবে প্রায় ১৮ লাখ চারা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ: ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০টি, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ: ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০০টি, উপকূলীয় বন বিভাগ: ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০০টি, চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন: ১৫ হাজার ২৮৯টি, সিডিএ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে (কর্ণফুলী বেড়িবাঁধ সড়ক): প্রায় ১৬ হাজারটি

গাছের স্থায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, রোপণ করা প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম পাঁচ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে। গবাদিপশুর হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি সোনালু গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। প্রথম দিনে রোপণ করা ১৯ প্রজাতির চারার মধ্যে সোনালু, চালতা, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, বকুল, পলাশ, মহুয়া, কাঞ্চন, আমলকি, অর্জুন, জলপাই ও মেহগনি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় মাত্র দুই মাসে এক লাখ বৃক্ষরোপণ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগণ এবং সিডিএ-র নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।