দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা ছয়টি জেব্রার মধ্যে পাঁচটিরই মৃত্যু হওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় রয়েছে মাত্র একটি মাদি জেব্রা। একা থাকা এই জেব্রাটির জন্য সঙ্গী নিশ্চিত করতে দেশের অন্য কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানা থেকে প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে জেব্রা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, বর্তমানে তাদের নির্ধারিত জায়গার তুলনায় বাঘের সংখ্যা বেশ বেশি। চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৭টি বাঘ রয়েছে। এই অতিরিক্ত বাঘের মধ্য থেকে এক জোড়া বাঘের বিনিময়ে তিন জোড়া জেব্রা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একা থাকা মাদি জেব্রাটি সঙ্গী পাওয়ার পাশাপাশি চিড়িয়াখানায় জেব্রার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চারটি মাদিসহ মোট ছয়টি জেব্রা আমদানি করা হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় সেগুলোর বেশিরভাগই মারা যায়:

২০১৮ সাল: ওই বছরই মারামারিতে আহত হয়ে একটি এবং প্রসবকালীন জটিলতায় আরেকটি জেব্রা মারা যায়।

২০২১ সাল (২৯ জুলাই): মারামারির ঘটনায় আরও একটি জেব্রার মৃত্যু হয়।

প্রসবকালীন জটিলতায় আরও দুটি জেব্রার মৃত্যু হয়। এর ফলে ছয়টি জেব্রার মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি জেব্রা জীবিত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৩ সালে রংপুর চিড়িয়াখানায় দুটি বাঘের বিনিময়ে ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া জলহস্তী আনা হয়েছিল। সেই সফল অভিজ্ঞতার আলোকে এবার প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে জেব্রা সংগ্রহের এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ জানিয়েছেন, জেব্রার জন্য আগের তুলনায় আবাসন বা থাকার জায়গা বড় করা হয়েছে, ফলে নতুন জেব্রা আনা হলে তাদের পরিচর্যা ও রাখা সহজ হবে।