২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন অল্প সময়েই গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যার অন্যতম রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল নরসিংদীতে। গুলি, সংঘর্ষ, কারফিউ, জেলা কারাগারে হামলা ও প্রাণহানির মধ্য দিয়ে জেলাটি হয়ে ওঠে আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দুই বছর পরও সেই রক্তাক্ত স্মৃতি যেমন অমলিন, তেমনি নিহতদের স্বজনদের প্রধান চাওয়া—প্রকৃত দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নরসিংদীতে ১৯ জন নিহত এবং অন্তত ৫০৭ জন আহত হন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন শিক্ষার্থী, তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষ। গত ১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে প্রথম মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে জেলায় আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৪ ও ১৫ জুলাই সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত হয়।
আন্দোলনের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল ১৮ জুলাই। এদিন জেলখানা মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রাবার বুলেটের আঘাতে নিহত হন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও নরসিংদীর প্রথম শহিদ তাহমিদ ভূঁইয়া তামিম (১৫) এবং সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের শিক্ষার্থী মো. ইমন মিয়া (২২)। তাহমিদের মরদেহ নিয়ে মিছিলের সময়ও পুলিশের গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখান থেকে ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যান। ওই দিন ভেলানগর, জেলখানা মোড়, ইটাখোলা ও মাধবদীতে গুলিতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে আমজাদ হোসেন, শিয়াম, হৃদয় মীর, সুজন মিয়া, শাওন আহমেদ, আশিকুল ইসলাম রাব্বি, নাহিদ মিয়া, আলী হোসেন, হাসান মিয়া, কামাল মিয়া, আজিজুল মিয়া, মাইন উদ্দিন, মোস্তফা ও সুমন মিয়ার মতো তরুণ ও শ্রমজীবী মানুষ জীবন দিয়েছেন। ২০ ও ২১ জুলাই কারফিউ জারি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও ৪ আগস্ট ফের সংঘর্ষ হয় এবং ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর জেলাজুড়ে বিজয় উল্লাস শুরু হয়।
আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি হলেও অনেক শহীদ পরিবার এখনও বিচার না পাওয়ার বেদনায় দিন কাটাচ্ছেন। শহীদ তাহমিদের বাবা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও অন্যান্য স্বজনদের একটাই দাবি, তাদের সন্তানরা যেন ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হয়।

মন্তব্য করুন
মন্তব্য সমূহ
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!